বয়ঃসন্ধিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে দেহ, মন ও আচরণেরও পরিবর্তন হয়। এই স্বাভাবিক পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করা ও মানিয়ে নেওয়া হলে এই সময়টি সহজভাবে অতিবাহিত করা যায়। এ সময় দেহের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। পুষ্টিমান সম্পন্ন পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। সহজেই ক্লান্তি বোধ হয়। এ জন্য এ সময় সব রকম খাবার প্রয়োজনীয় পরিমাণে খেতে হবে। মেয়েদের এ বয়সে রক্তাল্পতা হতে পারে। লৌহজাতীয় খাবার রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
শারীরিক পরিবর্তন বা ঋতুস্রাব শুরুর প্রথমদিকে অনেকের পেটে ব্যথা, মাথা ধরা, পিঠে ব্যথা ইত্যাদি বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এগুলো খুব স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে খেলাধুলাসহ সব কাজই করা যায় তবে ভারী জিনিস তোলা, বহন করা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য ছেলে মেয়ে উভয়েরই মধ্যে কিছু আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। দৈহিক পরিবর্তনের কারণে এই বয়সে ছেলে মেয়েরা অনেক সময় চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। এ ব্যাপারে শিক্ষক, মা-বাবা, বড় ভাই-বোন অথবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যগণের কাছ থেকে শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিলে সহজেই শারীরিক ও মানসিকভাবে খাপ খাওয়ানো সম্ভব।
সুপ্তি এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেছে। সে খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে। এ বয়সের পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে তার অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু খোলামেলা জিজ্ঞাসা করতে পারে না। কেমন একটা দ্বিধা, সংকোচ তার মধ্যে কাজ করে। এটা বয়ঃসন্ধিক্ষণের একটি সাধারণ ঘটনা। সুপ্তির মতো অনেকেই বাবা-মাকে বা বড়দের কাছে সমস্যা নিয়ে খোলামেলা প্রশ্ন করতে পারে না। কিন্তু সব সময় মনে রাখতে হবে যে, এই সময়ের যেকোনো সমস্যায় মা-বাবা, বড় ভাই-বোন, শিক্ষক বা নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যক্তির পরামর্শই সকল দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা
স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বিশেষ জরুরি। শারীরিক পরিচ্ছন্নতায় মনও প্রফুল্ল থাকে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে ত্বকের নিচে বগলের গ্রন্থি থেকে বেশি ঘাম নিঃসরণ হয়। এজন্য নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত।
মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় করণীয়-
- পরিষ্কার কাপড় বা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা।
- কাপড় ব্যবহার করলে সেটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো।
- কাপড় অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গায় না রাখা, এতে রোগ জীবাণু সংক্রমণের আশংকা থাকে।
- ব্যবহৃত কাপড় বা ন্যাপকিন ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে ফেলা। বেশিক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকলে নানা রকম সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
- ব্যবহৃত কাপড় বা ন্যাপকিন কাগজে জড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা।
| কাজ-১ কৈশোরে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য কী কী করবে- তার একটি তালিকা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
১১ বছরের অরণীর হঠাৎ করে দৈহিক পরিবর্তন আসায় মানুষের চোখ এড়াতে সে ঝুঁকে হাঁটে। সে এটাকে সমস্যা মনে করে।
Read more